গল্পঃ #অভিমানী_ভালবাসা 

#পর্ব_৪

লেখাঃ #সাবেরা_সুলতানা_রশিদ


এতো অবাক হবেন না,, রাগলে কিন্তু আপনার নাকের আগাটা লাল হয়ে যায় দেখতে ভারী সুন্দর লাগে কথাটা বলেই সৈকত দ্রুত বেরিয়ে যায়। 


আর স্নিগ্ধা সে গোলকধাঁধায় পড়ে যায়


রাতে স্নিগ্ধাদের খাবার টেবিলে থমথমে ভাব  বিরাজ করছে। 


নয়না ইশারা দিয়ে স্নিগ্ধা কে কিছু বলতে বলে কিন্তু স্নিগ্ধা ইশারা দিয়ে নয়নাকে বুঝিয়ে দেয় যে সে তার আম্মুকে সকালের ব্যাপার নিয়ে আর কিছুই বলতে চাই না। কারণ সকালে রেহানা রহমান যখন নিজের ব্যক্তিগত কাজ শেষ করে  বাসায় ফিরছিলেন তখন রহিম চাচার দোকানে যেতেই তিনি নাকি বলেছে ,আমাগো নাত জামাই তো খুব সুন্দর দেখতে তা কবে বিয়ে দিচ্ছো মেয়েকে?আর কোন মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছো নিজের মেয়ে স্নিগ্ধাকে না পালিত মেয়ে নয়না কে??


রহিম চাচার মুখে হঠাৎ এমন কথা শুনে রেহানা রহমান কিছুটা অবাক হয়ে যায় ।তারপর বলেন আপনি কার কথা বলছেন চাচা?আর আপনাদের কতবার বলেছি স্নিগ্ধা যেমন আমার মেয়ে তেমন নয়নাও আমার মেয়ে।কেন শুধু শুধু আপনারা সহজ বিষয় টাকে মেনে নিতে পারেন না।


ও আল্লাহ কয় কি!?দুধ কা দুধ পানি কা পানি,তুমি মানলেও কি আর না মানলেও কি!?ও মাইয়া যে তোমার নিজের না সেটা বেবাগ মানসেই জানে। আর কার কথা বলতেছি বুঝতেছো না,সকালে যে ধবধবে সাদা ফর্সা সুন্দর করে একটা  উচা লম্বা সাহেবি কায়দার  ছেলেটা আইয়া আমার কাছে তোমাগো বাসার ঠিকানা জিগাইলো আমি তার কথা কইতাছি।


রেহানা বলে চাচা আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমি এখনো আমার মেয়েদের বিয়ে কার সাথে দিবো সেটা ঠিক করিনি।আর কে না কে এসেছে তা না জেনে আপনি এমন কথা কেন বলছেন।হতে পারে সে আমার পার্লারের কোন ক্লাইন্ট।হয়তো তার স্ত্রী সহ পার্লারে এসেছিলো। 


আরেএএ কিযে কউ না বৌমা…বুড়া হয়ে গেছি তাই বলে এ-ই না যে কোন কিছু বুঝবার পারিনা। ছেলেটারে দেখলেই বোঝা যায় যে অল্প বয়স তবে মনে অয় অনেক টাকা পয়সা আছে।


রেহানা রহমান রেগে গেলেও সেটা সেটা রহিম চাচাকে  বুঝতে না দিয়ে নিজের যা দরকার লিস্ট মতো নিয়ে টাকা পরিশোধ করে দ্রুত বাসার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়।


রহিম চাচা ও সুযোগ বুঝে রেহানা বেগমকে শুনিয়ে বললেন দুনিয়া ডাই লোভী মানসে ভইরা গেছে, এখনকার মা গুলা তাদের মাইয়া গুলারে টাকা ওয়ালা মানসের পিছনে লেলিয়ে দায়,,


রহিম চাচার কথাটা কানে পৌছাতেই যেন পুরাতন কিছু স্মৃতি রেহানা রহমানের সামনে ভেসে ওঠে। নিজেকে আর সামলাতে না পেরে শাড়ীর আচলে মুখ গুজে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাসায় ফিরে আসেন।


স্নিগ্ধা তার মায়ের অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি করে ছুটে এসে হাত থেকে জিনিসপত্র গুলি নামিয়ে চেয়ারটা এগিয়ে বসতে বলে।


নয়না সাথে সাথে একগ্লাস ঠান্ডা পানি এনে বলে এ-ই নাও মামুনি পানি টুকু খেয়ে নাও ভালো লাগবে।


রেহানা, স্নিগ্ধা আর নয়নার মুখের দিকে তাকিয়ে  কিছু না বলে নয়নার হাত থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পানি টুকু খেয়ে বলে বাসায় কে এসেছিলো রে নয়না??


নয়না আর স্নিগ্ধা বুঝে যায় নিশ্চয় রেহানা কে বাসায় আসার আগেই কেউ হয়তো কিছু বলেছে তাই তিনি কিছুটা উত্তেজিত হয়ে আছে।


স্নিগ্ধা বলে আম্মু একজন ক্লাইন্ট এসেছিলো ,নতুন একটা কাজ নিয়ে।


স্নিগ্ধার কথা শুনে রেহানা যেন হাফ ছেড়ে বাচলেন, কেনোনা রহিম চাচার কথা গুলি ভিতরে ভিতরে খুব ভাবাছিলো রেহেনাকে।


রেহানা মিচকি হেসে বললেম কি কোন বিয়ের সাজ করানো লাগবে??নাকি পার্টি সাজ?


নয়না আমতা আমতা করে বলে মামুনি এটা একটা শুটিংয়ের এবং ফটোশুটের কাজ করে দিতে হবে।


রেহানাঃ শুটিংয়ের কাজ মানে??


নয়নাঃ মামুনি তুমি আমাদের পিছনের ওই বড় বিলবোর্ড টা দেখেছো কখনো। 


রেহানাঃ হ্যা দেখবো না কেন, ঘাড় ঘুরিয়ে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলে ওই তো দেখতে পাচ্ছি।এর সাথে শুটিংয়ের এর কি সম্পর্ক?


নয়নাঃ বিলবোর্ডের সাথে সম্পর্ক না মামুনি,সম্পর্ক বিলবোর্ডে থাকা ওই মানুষ টার সাথে। 


রেহানাঃ এতো জটিল কথা না বলে সহজ করে মনে হয় তুই কোন কথাই বলতে পারিস না।


স্নিগ্ধা তার আম্মুর কথাই হেসে ওঠে।


নয়না রেগে বলে হ্যা আমিতো সব সময় জটিল করেই কথা বলি,এতে আমার কি দোষ এতো আমার অভ্যাস।


রেহানাঃ রাগ করিস না, খুলে বলতো সব কিছু।না বললে বুঝবো কি করে।


নয়নাঃ বিলবোর্ডে যার ছবি দেওয়া ওই মানুষ টাই আজ আমাদের বাসায় এসেছিলো। 


রেহানাঃ কিছুটা অবাক হয়ে বলে তাই নাকি কিন্তু আমাদের কেন তার দরকার।তারা হচ্ছে বড় বড় সুপারস্টার। নামি দামি মানুষ। তারা কেন আমাদের খোজে এই মফস্বলে। 


নয়নাঃ আসলে উনি নাকি অন্য কার কাছ থেকে  আমাদের পার্লার সম্পর্কে শুনেছেন।সে নাকি অনেক ভালো ভালো রিভিউ দিয়েছেন তাই উনি নতুন একটা কাজের জন্য নতুন মেক আপ আর্টিস্ট খুজছিলেন। যখন আমাদের প্রতিষ্ঠানের কথা শুনেছেন তখন নিজেই দেখতে এসেছিলেন, আর কাজটা করে দেওয়ার জন্য অনেক রিকুয়েষ্ট করলেন।


স্নিগ্ধাঃ আম্মু আমি কিন্তু এই কাজের জন্য তাকে সরাসরি না করে দিয়েছিলাম, বলেছিলাম যে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও গিয়ে কাজ করিনা, তারপরও উনি শুনলেন না।


রেহানাঃ এই কাজটা করতে হবে না।এটা ক্যান্সেল করে দাও।


নয়নাঃ মামুনি এটা তুমি কি বলছো?


রেহানাঃ যা বলছি সেটাই করো,কারন আমি চাইনা তোমরা বাইরে গিয়ে কাজ করো।এখন কার দিন কাল ভালো না,কার মনে কি আছে বলা যায় না।


নয়নাঃ তুমি যা ভাবছো সেরাকম কিছুই না।


রেহানাঃ নয়না এ নিয়ে আমি আর কথা বলতে চাইনা।তোমরা যাবে না ব্যাস যাবেনা।


রেহানা রহমানের মনে একটা জিনিস খচখচ করচে। কিছু ভেবে বলে ছেলেটার নামটা কি? 


স্নিগ্ধা সৈকত চৌ…

নয়নাঃ স্নিগ্ধার কথা মাঝ পথে থামিয়ে বলে উনার নাম  সৈকত মামুনি।


রেহানা নামটা শুনে কিছু একটা মিলাতে চেষ্টা করেন কিন্তু পারছেন না,, ব্যর্থ হয়ে আবার জিজ্ঞাসা করেন  পুরো নামটা কি??


নয়নাঃ বললাম না সৈকত, আমরা তো এটুকুই শুনেছি আর জানিনা বলে স্নিগ্ধার হাতে একটা চাপ দেয়।


স্নিগ্ধা বুঝতে পারে নয়না কিছু একটা সৈকতের ব্যাপারে লুকাতে চাচ্ছে কিন্তু কেন সেটাই বুঝে উঠতে পারেনা।


নয়না আর কিছু বলে না,মনে মনে ভাবে হয়তো কিছু নিয়ে মামুনি চিন্তিত তাই এখন আর কথা বলা যাবে না,রাতে যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে রাজি করাতে হবে।


রেহানা রহমান কে ম্যানেজ করার উদ্দেশ্যে নিয়েই নয়না আর স্নিগ্ধা দুজন ইশারায় কথা বলা শুরু করেছে রাতে খাবার টেবিলে।


রেহানাঃ তোমরা কি কিছু বলবে? না খেয়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট করছো কেন?


নয়না একটু বুকে সাহস নিয়ে বলে মামুনি তুমি ওই কাজটা করতে না করোনা প্লিজ,দ্যাখো সুযোগ তো সব সময় আসে না,আজ যেহেতু আমরা এতো বড় একটা সুযোগ পেয়েছি সেটা কে কি হাত ছাড়া করা উচিৎ তুমি বলো?কাজ শিখেছি তো কাজ করার জন্য।আগামীকাল  কাজটা করে যদি  ভালো কিছু হয় তাহলে দেখো রাতারাতি আমাদের পার্লারের নাম টা চারিদিক ছড়িয়ে পড়বে,, আমাদের পার্লারে ক্লাইন্ট বেড়ে যাবে। 


রেহানাঃলোভে পাপ আর পাপে… বাকী টুকু হয়তো বুঝে ফেলেছো।


নয়নাঃ একটু কান্না কন্ঠে আমি জানতাম তুমি রাজি হবে না, আর হবেই বা কেনো!আমি তো তোমার কেউ নই।আমাকে তো পথে কুড়িয়ে পেয়েছো তাই… 


নয়নার কথা শেষ হতে না হতেই রেহেনা রহমান বলেন চুপ একদম চুপ, ফের যদি এই কথা মুখে এনেছিস তো মেরে হাড় ভেঙ্গে দিবো।


স্নিগ্ধা বুঝতে পারছেনা কি হচ্ছে সকাল থেকে এবাড়িতে,, একটার পর একটা যেন মেগা সিরিয়াল চালু হয়েছে,,সৈকতের আগমন থেকে শুরু করে এই রাত অবধি যত ঘটনা ঘটেছে তাতে স্নিগ্ধার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে।


রেহানাঃ ঠিক আছে আগামীকাল কাজটা করে এসো তবে এর পর আর করতে পারবে  না।


নয়না উঠে রেহানা কে জড়িয়ে ধরে বলে মামুনি ইউ আর বেস্ট, আই লাভ ইউ।


স্নিগ্ধা অবাক দৃষ্টিতে নয়নার দিকে তাকিয়ে থাকে।


নয়না সেটা লক্ষ্য করে স্নিগ্ধাকে চোখ মেরে বুঝিয়ে দেয় সহজে কাজ না হলে একটু ইমোশোনে আঘাত করতে হয়। 


স্নিগ্ধা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে নয়নার উদ্দেশ্যে বলে কাজটা কি ঠিক হচ্ছে। 


নয়নাঃ কি কাজের কথা বলছিস তুই??


স্নিগ্ধাঃ আম্মুকে কেন সত্যিটা বললি না, কেন সৈকতের পুরো নামটা না বলে শুধু সৈকত বললি,,


নয়নাঃ দেখ স্নিগ্ধা তোর থেকে আমি কিছু লুকাবো না ,তবে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির আর এই চৌধুরী পরিবারের সাথে মামুনির গভীর কোন সম্পর্ক ছিলো।


স্নিগ্ধাঃ কিছুটা অবাক হয়ে কি বলছিস তুই!?হঠাৎ তোর এমন কেন মনে হলো বলতো?


নয়নাঃ আমার মনে হওয়ার অনেক কারণ আছে। কারন আগের দিন রিহানের সাথে যে ভদ্র লোক মামুনির সাথে দেখা করতে আসছিলেন উনি সৈকতের বাবা,আর তাকে দেখে মামুনি কেমন যেন রিয়্যাক্ট করে,আমি ওখানে ছিলাম প্রথম দিকে কিন্তু মামুনি আমাকে পরে বাইরে চলে আসতে বলে, বলেছিলো বড়দের কথার মাঝে না থাকতে,তাই আমি এসে বাইরে ছিলাম, কথা পুরো ক্লিয়ার শুনতে না পারলেও যেটুকু কানে আসছিল তাতে মনে হচ্ছে এক সময় তাদের মাঝে ভালো সম্পর্ক থাকলেও কোন কারনে সেটা নষ্ট হয়ে যায়, আংকেল বার বার বলছিলেন তিনি প্রাপ্য অংশটুকু ফিরিয়ে দিবেন কিন্তু মামুনি রেগে তাকে বের করে দেয়। 


স্নিগ্ধাঃ আমিতো এতো কিছু জানিনা,,


নয়নাঃ তুই ছিলি না তখন,, তোর সাথে তো চলে যাওয়ার সময় দেখা হলো।


স্নিগ্ধাঃ জানিস উনি তখন অনেক অসুস্থ ছিলেন কেমন যেন টাল খাচ্ছিলেন আর হাটছিলেন, মনে হচ্ছিল এক্ষনই পড়ে যাবে। আমি যদি তাকে তখন না ধরতাম তাহলে বড় কোন এক্সিডেন্ট ঘটে যেতে পারতো।যখন শুনলেন যে আমি শাহেদ রহমানের  মেয়ে তখন অনেক খুশু হয়েছিলেন,,খুশিতে উনি কান্না করে দিয়েছিলেন। অনেক সুন্দর করে আমার সাথে কথা বলেছিলো।কিন্তু কি এমন ঘটনা এর পিছনে থাকতে পারে যার জন্য আম্মু ওই ফ্যামিলিটাকে এতো ঘৃনা করেন।


নয়নাঃকই এতো কিছু তো তুই বাসায় এসে বলিস নি!?সে,যাকগে আমার উদ্দেশ্যে কিন্তু এখন একটাই সত্যটা  উদঘাটন করার।প্লিজ স্নিগ্ধা তুই না করিস না।


স্নিগ্ধাঃ ঠিক আছে তোর যা ভালো মনে হয়।


নয়নাঃতবে সৈকতের বিষয় টা আমাকে একটু ভাবাছে বুঝলি,


স্নিগ্ধাঃ কোন বিষয়!? 


নয়নাঃ আহা যেন বুঝতেই পারছেনা,সৈকত যে তোকে পটানোর চেষ্টা করছে সেটা কিন্তু বেশ বুঝেছি আমি। 


স্নিগ্ধাঃ তুই কি পাগল হলি,,একদিন দেখাতেই উনি আমাকে পটিয়ে ফেলছে আর আমি বুঝতেই পারছিনা!?


নয়নাঃ তুই কি করে বুঝবি? তোর তো সেই অনুভূতিই নেই। তোর অনুভুতি তো সব ওই চুইংগাম কে ঘিরে তাইনা??আর দেরি করিস না ঘুমিয়ে পড় সকাল সকাল উঠতে হবে তো।


স্নিগ্ধাঃতুই ঘুমা আমি আসছি।


আজ স্নিগ্ধার মনের আকাশে না চাইতেও অনেক প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করে।সেই প্রশ্ন গুলি নিয়েই আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবনার জগতে ডুব দেয় স্নিগ্ধা।


ওদিকে রেহানা বেগমের চোখে যেন আজ আর ঘুম আসার নাম নেই।চোখের উপর ভেসে উঠছে সেই পুরাতন দিনের কিছু স্মৃতি।  আরমান চৌধুরীর বেঈমানীর  জন্য তিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন।এখানো রেহানা মনে করে শুধুমাত্র আরমানের কিছু ভুলের জন্যই তার প্রিয়তম স্বামী শাহেদ রহমান এই দুনিয়া ছেড়ে পরাপারে পাড়ি জমিয়েছেন তাদের ছেড়ে।রেহানা বিছানা ছেড়ে উঠে টেবিল থেকে পানির গ্লাস্টা নিতে গিয়ে নিউজ পেপারের একটা নিউজ দেখে চোখ আটকে যায়।তাড়াতাড়ি করে নিউজ পেপার হাতে নিয়ে দেখে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী আরমান চৌধুরী আর নেই…নিউজটা দেখেই কেমন যেন মাথার ভিতরে চক্রর দিয়ে ওঠে। সাথে সাথে টেবিল টা ধরে নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে রেহানা।তারপর হাত থেকে নিচে পড়ে যাওয়া সংবাদপত্র টি উঠিয়ে তারিখ টা চেক করেন।সংবাদ পত্রে আজকের তারিখ টা ২১.১০.২০১০ দেওয়া আছে।তারমানে ১৯ তারিখ এখান থেকে যাওয়ার পরে সেদিন রাতেই আরমান চৌধুরী মারা গেছে মনে মনে হিসেব কষে রেহানা। তারপর গ্লাসের পানি টুকু খেয়ে নিজের কাবার্ডের দিকে এগিয়ে যান। কাবার্ডের ভিতরে সযত্নে লুকিয়ে রাখা পুরাতন ছবির  এলব্যাম টা তিনি বের করে দেখতে থাকেন, আর ছবির উপর হাত বুলান। 


নয়না সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নিগ্ধাকে রেডি হতে বলে মামুনির সাথে নাস্তা বানাতে সাহায্যে করে।


নাস্তা শেষ হতেই সৈকতের পাঠানো গাড়ির ড্রাইভার এসে দরজায়  নক করে বলে যে, রেডি হয়ে থাকলে তাড়াতাড়ি চলুন স্যার আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে।


স্নিগ্ধা আর নয়না রেহানা রহমান এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দরকারী জিনিস গুলি সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।


চৌধুরী প্যালেসের সামনে গাড়ি থামতেই সৈকতের বাসার ২/৩ জন কাজের লোক এসে স্নিগ্ধা আর নয়নাকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেয়।স্নিগ্ধা আর নয়না দুজনেই হতবাক হয়ে যায় এহেন কর্মকাণ্ডে।সৈকত হাসতে হাসতে ওদের কাছে এগিয়ে এসে বলে “ওয়েলকাম টু চৌধুরী প্যালেস”।


নয়না আর স্নিগ্ধা দুজনেই বাইরে থেকেই দেখে অবাক হয়ে যায়, বাইরে থেকে যে বাড়িটা এতো সুন্দর না জানি ভিতর টা কত সুন্দর হবে!!?


সৈকত দুজনকে ভিতরে নিয়ে যায়,নয়না তো মহা খুশি এদিক ওদিক তাকিয়ে মন ভরে দেখতে থাকে। কিন্তু স্নিগ্ধার  কেমন যেন লাগছে ।স্নিগ্ধা মনে মনে ভাবে শুটিংয়ের কথা বলে নয়না আর স্নিগ্ধাকে আনা হয়েছে কিন্তু কই কোন ক্যামেরা ম্যান বা অন্য কোন বাইরের লোককে তো দেখা যাচ্ছে না।


সৈকত স্নিগ্ধার মনের অবস্থা কিছুটা আচ করতে পেরে বলে,নাস্তার টেবিলে চলুন নাস্তা করবো। 


স্নিগ্ধা মাথা নেড়ে বলে নো থ্যাংকস আমি বাসা থেকে নাস্তা করে এসেছি।


সৈকত কিছুটা আশ্চর্য হয়ে বলে সে কি কথা,আমি আপনাদের জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করছি আর আপনারা বাসা থেকে খেয়ে এসেছেন?


স্নিগ্ধা বলে হ্যাঁ। আপনি বরং খেয়ে নিন আমরা অপেক্ষা করছি।


সৈকত কিছুটা স্নিগ্ধার দিকে এগিয়ে এসে স্নিগ্ধার হাত ধরে বলে, আজ প্রথম আমার বাসায় আমি নিজে থেকে কাউকে ইনভাইট করেছিলাম, তার জন্য আমি বিশেষ আয়োজন ও করেছি। এখন যদি সে রিফিউজ করে তাহলে সেটা কি ভালো দেখাবে??


নয়না কোথা থেকে যেন হুট করে এসে হাজির হয়, এসেই বলে মোটেও ঠিক হবে না,,


সৈকত নয়নার দিকে তাকিয়ে একটু হেসে  স্নিগ্ধাকে ইংগিত করে বলে সেটা একটু  বোঝান আপনার বান্ধবীকে।


নয়না স্নিগ্ধাকে ইশারা করে কিছু বলতে। 


স্নিগ্ধা কিছু না বলে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই সৈকত স্নিগ্ধার ডান হাত ধরে একটানে নিজের বুকের কাছে নিয়ে আসে।


সৈকত স্নিগ্ধার চোখের দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে আমি যেটা বলছি সেটাই করতে হবে নইলে কিন্তু…..


চলবে.....


Comments

Post a Comment